Saturday, March 7, 2009

"অনাগত সন্তানের কাছে প্রার্থনা"-ছুটির দিনে'র ০৭ই মার্চ সংখ্যার একটা অসাধারণ লেখা...


প্রথম আলো'র ছুটির দিনে'তে প্রতিবারই দেখছি একটি করে হৃদয়ছোয়া লেখা। আজকের লেখাটা পড়ে খুব বেশি ভাল লাগলো। তাই ব্লগে দিয়ে দিলাম। মাদক যে কতটা ভয়াবহ তা এই লেখাটা থেকে বোঝা যায়। অনাগত সন্তানের কাছে পিতার লেখা একটা চিঠি এই লেখাটি। যেই চিঠিটি শিশুটির কাছে পৌছবে। কিন্তু পিতা তখন থাকবে না। মাদকের মরণনেশা কেড়ে নেবে পিতার জীবন।।।
*************************************

প্রিয় সন্তান,
অনেক আবেগ আর ভালোবাসা নিয়ে তোমায় লিখছি আজ। জানি না এই চিঠি, এই আকুল আকুতি, তোমার জন্নদাতা পিতার এই প্রাণের প্রার্থনা তোমার কাছে কোনো দিন পৌঁছাবে কি না। তুমি তো এখনো চোখ মেলোনি এই পৃথিবীর আলোয়। তুমি তোমার অস্তিত্ব জানান দিচ্ছ তোমার মমতাময়ী মায়ের মধ্যে। তাঁর রুগ্ণ শরীরের ভেতর দিন দিন বেড়ে উঠছ তুমি। আমি তোমার মায়ের পেটে হাত রেখে তোমার অস্তিত্ব অনুভব করি। তোমার নড়াচড়া, তোমার এਆাদোਆা−সব বুঝতে পারি আমি।
প্রিয় সন্তান, ডাক্তারের হিসাব অনুযায়ী, আরও প্রায় দুই মাস সময় লাগবে তোমার আসতে। সবাই তোমার আগমনের আশায় অপেক্ষমাণ। তোমার দাদুমণি, তোমার কাਆু, তোমার খালামণিরা সবাই তোমার তুলতুলে গায়ে আদর দিতে অপেক্ষমাণ। সবাই কান পেতে আছে তোমার প্রথম কান্নার পবিত্র সংগীত শুনতে। ভালোবাসার নকশি কাঁথা নিয়ে সবাই প্রস্তুত তোমাকে বরণ করতে। তোমার আসতে এত দেরি হচ্ছে কেন, প্রিয়।
প্রিয় সন্তান আমার, ডাক্তার বলেছেন, তুমি আমাদের কন্যাসন্তান। দুই দিন ধরে কেবলই ভাবছি, তোমার একটা নাম দেওয়া দরকার। একটি সুন্দর, কবিতার মতো নাম। কিন্তু কিছুতেই মনে আসছে না সে রকম নাম। ভারি বিপদ হলো তো! তোমার জন্য একটা নাম খুঁজে পাচ্ছি না। আচ্ছা, তুমিই বলো, যেনতেন নাম হলে কি চলে। আমার মেয়ের নাম হতে হবে কবিতার মতো সুন্দর, তাই না! আচ্ছা, পারমিতা নামটা সুন্দর না? পছন্দ হয় তোমার? ঠিক আছে, তোমার নাম দিলাম পারমিতা। পারমিতা মানে কি জানো? পারমিতা মানে হলো লক্ষ্মী মেয়ে, যে তার আম্মুর কথা শোনে; নড়াচড়া করে না। নড়াচড়া করলে যে আম্মুর ভারি কষ্ট হয়−তুমি বোঝ না কেন, সোনা।
প্রিয় পারমিতা, তুমি দেখতে কেমন হবে−তোমার চোখ কেমন হবে, চুল কেমন হবে, আমি জানব না। তুমি হাসলে তোমাকে কেমন দেখাবে, অভিমানের অশ্রু ঝরলে তোমাকে কেমন লাগবে, আমি দেখতে পাব না। প্রতিবেশী কোনো পাজি ছেলে তোমায় কটুকথা বললে আমি এক ধমকে তার পিলে চমকে দিতে পারব না। মৃত মানুষেরা ওসব পারে না, মা। ডাক্তারদের ধারণা, তোমার মাদকাসক্ত মুমূর্ষু পিতা বড়জোর আর পনেরো দিন বাঁচবে। পনেরো দিন বড় অল্প সময়। তোমার আসতে এত দেরি হচ্ছে কেন, সোনা।
কাল কী হয়েছে জানো, পারু? মাঝরাত্তিরে তোমার মা যখন ঘুমিয়ে ছিলেন, আমি সন্তর্পণে তোমার মায়ের পেটে, যেখানে তুমি আছ, অজস্র চুমু খেয়েছি। মনে হলো, আমি আমার সন্তানের শরীরজুড়ে মেখে দিয়েছি ভালোবাসার চিহ্ন। তুমি কি বুঝতে পেরেছ পারু, তোমার পরাজিত পিতার প্রথম এবং শেষ চুম্বন? টের পেয়েছ আমার স্পর্শ?
প্রিয় পারমিতা, হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে তোমার মুমূর্ষু পিতা একটি সহজ স্বপ্ন দেখে: তুমি মানুষ হবে−অনেক বড় মানুষ। রোকেয়ার মতো নয়, জোয়ান অব আর্কের মতো নয়, মাদার তেরেসার মতোও নয়; তোমার মতো−তোমার নিজের মতো করে মহৎ মানুষ হবে তুমি। কখনো মাদক ছোঁবে না, প্রিয়। তোমার পিতার মতো পরিণতি যেন কারও না হয়, যেন একটি সন্তানও বঞ্চিত না হয় পিতৃস্নেহের পুষ্কপমঞ্জরি থেকে। আর...এই দেশটিকে ভালোবেসো। আমাদের দেশটি বড় অভাগা, বড় দুঃখী। তুমি তারে ভালোবেসো, প্রিয়।
তোমার জন্য রেখে যাচ্ছি কাঠগোলাপের ঘ্রাণ। আগাম বর্ষায়−যখন তুমি আসবে প্রতীক্ষার প্রহর শেষে−তখন গাছভর্তি ফুল থাকবে তাতে। সেই অনাগত ফুলের সমস্ত সৌন্দর্য দিলাম তোমার আগমনী উপহার। ভালোবাসা নাও।
তোমার পরাজিত বাবা।


"নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক" একজন লেখাটা দিয়েছেন।




লেখাটা প্রথম আলোর সাইটে পাবেন।


কনভার্ট করেছি এখান থেকে

Wednesday, March 4, 2009

মাকে নিয়ে গাওয়া একটা অসাধারণ গান। "তারে জামিন পার" ছবির "মা" (ভিডিওসহ)

ছবিটা যারা দেখেছেন তারা এককথায় বলবেন ছবিটা অসাধারণ একটা ছবি। এই গানটাও অসাধারণ ছবিটির একটা অসাধারণ গান। অসম্ভব ভাল লাগে গানটা শুনলে। আপনাদের সবার সাথে শেয়ার করছি।

শুনতে এবং ডাউনলোড করতে এখানে ক্লিক করুন

গানটির ভিডিও দেখতে এবং ডাউনলোড করতে পারবেন এখান থেকে


লিরিক্সটা ইংরেজীতেই পেয়েছি। সেভাবেই দিয়ে দিলাম।।।
main kabhi batlaata nahi….
par andhere se darta hoon main maa

yuun to main dikhlaata nahi….
teri parwaah karta hoon main maa

tujhe sab hai pata….
hai na maa
tujhe sab hai pata…
meri maa

bheed mein yuun na chhodo mujhe….
ghar laut ke bhi aana paau maa

bhejna itna door mujhko tu….
yaad bhi tujhkoaana paau maa

kya itna bura….
hoon main maa
kya itna bura…
meri maa

jab bhi kabhi papa mujhe….
zor zor jhula jhulate hai maa

meri nazar dhoondhe tujhe….
sochun yahi tu aake thaamegi maa

unase main yeh kehta nahi….
par main seham jaata hoon main maa

chehre mein aane deta nahi….
dil hi dil mein ghabraata hoon main

tujhe sab hai pata….
hai na maa
tujhe sab hai pata…
meri maa

o main kabhi batlaata nahi….
par andhere se darta hoon main maa

yuun to main dikhlaata nahi….
teri parwaah karta hoon main maa

tujhe sab hai pata….
hai na maa
tujhe sab hai pata…
meri maa

Tuesday, February 24, 2009

ছাপাখানার গন্ধ, আনিসুল হকের লেখা বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনে শহীদ রফিকের গল্প...

গল্পটা ২১শে ফেব্রুয়ারী আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, ২০০৮ উপলক্ষ্যে প্রথম আলো 'য় ছাপা হয়েছে।
*****************************
ছাপাখানার গন্ধটা প্রথম প্রথম সহ্য হতো না রফিক উদ্দিন আহমেদ রফিকের। এই কালিঝুলি আর সিসার অক্ষর আর কেরোসিন আর স্পিরিটের গন্ধ। ঘরটাও গুমোট। ওদিকে গোলানো আটা আর তুঁতের দ্রবণটা মিলিয়ে যে আঠা, তারও একটা গন্ধ আছে। মানিকগঞ্জের সিংগাইরের মুক্ত প্রান্তরের বাতাস থেকে এই বদ্ধ ঘরে এসে তার মনটা টিকবে কেন। এই মাথার ওপরে ঝুলমাখা বাল্বের নিচে বসে ঘাড় গুঁজে সামনে প্রুফ দেখতে গিয়ে পায়ের নিচে গন্ধমুষিকের হঠাৎ দৌড়টা টের পেয়ে আরেকটা নতুন গন্ধ রফিকের নাকে এসে লাগে। বয়রা স্কুলের মাঠভরা ছিল চোরকাঁটা, ছোটবেলায় সে যখন দৌড়ে মাঠ পেরিয়ে বাড়ি ফিরত, তখন শো শো বাতাস এসে তার কানে লাগত। তারপর মোল্লাবাড়ির পেছনের জঙ্গলটা পেরুতে গেলে আতাফুল থেকে ভেসে আসত পাকা সবরি কলার গন্ধ, এখন এই গন্ধমুষিকের সঞ্চলন থেকে সে কথাটা তার মনে পড়ে অকারণে।
বাবা তাকে এই ঢাকা শহরে এনে ছাপাখানার কাজে লাগিয়ে দিল, এটা সে মানতেই পারছিল না। সত্য বটে, দেবেন্দ্রনাথ কলেজের শিক্ষক প্রাণনাথ বাবু বাবাকে বলেছিলেন, রফিক তো কলেজ ফাঁকি দেয়। কিন্তু কলেজ ফাঁকি দিয়ে সে কী করে? নাটক করে। মানুদা নতুন নাটক লিখেছেন একটা, খুদিরামের ফাঁসি নিয়ে, এতে রফিকের খুদিরামের পার্ট করার কথা, তো সেই কারণেই শেষের দিকে রফিক একটু বেশি সময়ই দিচ্ছিল তাদের উন্েনষ নাট্যদলের জন্যে। আগের নাটক গলি থেকে রাজপথে সে একটা সাইড ক্যারেক্টার করেছিল, কিন্তু অট্টহাস্য থেকে কান্নায় ভেঙে পড়ার সিনটায় সে এত ভালো করল যে সমস্ত ক্লাপস তার বরাতেই জুটেছিল। ভাগ্যিস, হ্যাজাক বাতির তীব্র আলোর টানে ছুটে আসা পোকাগুলোর একটা ওই সময়েই তার চোখে বাড়ি মেরেছিল। ফলে চোখ দিয়ে দরদর করে জল গড়াতে লাগল। সেদিনই নাটক শেষে মানুদা তাকে জড়িয়ে ধরে বলেছিলেন, খুদিরামকে নিয়ে লিখছি রফিক, এবার তুমিই হবে খুদিরাম। খুদিরামের চেহারার সঙ্গেও তোমার মিল আছে।
ব্যস। রফিক হাওয়ায় ভাসতে শুরু করল। এরপর সে খুদিরাম! একেবারে সেন্ট্রাল ক্যারেক্টার। গলি থেকে রাজপথ নাটকটাই তার জীবনের টার্নিং পয়েন্ট। কারণ পানুও ওই নাটক দেখতে গিয়েছিল বয়রা স্কুল মাঠে। রাহেলা খানম পানুর পরনে ছিল আকাশি শাড়ি, বিকেলের হলুদ আলোয় সেটা দেখাচ্ছিল সবুজ আর হ্যাজাক বাতির আলোয় সেটা অদ্ভুত একটা মেটে রং পেয়েছিল। নাটক শেষে যখন উইংসের পেছনে পর্দাঘেরা শামিয়ানা টাঙানো গ্রিনরুমে রফিক মেকাপ তুলছিল, পানুদার চোখেমুখে তখনো ভালো লাগার ঘোর, আর রফিকও বেশ ফুরফুরে মুডে গুনগুন করে গান গাইছে, মেকাপ তুলেই আবার লাগতে হবে মঞ্চ ভাঙতে, স্কুলের বেঞ্চগুলো যথাস্থানে রাখতে হবে, মঞ্চের টেবিলগুলোর বাঁধন খুলতে হবে, কলের গানওয়ালা তার সরঞ্জাম গোছাচ্ছে, এখনি তার পাওনা বুঝিয়ে দিতে হবে, এই সময় পানুর ছোটবোন শানু এসে হাজির, ভাইজান, বুবু আপনেরে ডাকে।
পানু ডাকে? রফিকের বুকটা একটা কাকিলা মাছের মতো লাফ দিয়ে ওঠে। সেটা গোপন করে রফিক মেকাপ ঘষতে ঘষতে বলে, পানু এখনো যায় নাই। রাইত বেড়ে যাচ্ছে, তোরা যাস নাই কেন?
বুবু আপনেরে ডাকে।
অগত্যা রফিককে পর্দার ঘের থেকে বাইরে আসতে হয়। হ্যাজাক লাইটগুলো এখন স্টেজ থেকে নামিয়ে মাটিতে রাখা হয়েছে, একটা লাল পর্দার ওপার থেকে আলো এসে পড়েছে পানুর মুখে, তাকে দেখাচ্ছে একটা টসটসে আমবেগুনের মতো, রফিক বলে, কী যাও নাই কেন বাড়ি?
পানু কিছু বলে না, তার নাকের দুপাশটা বিস্কারিত হতে থাকে, চোখ দিয়ে পানি গড়ায়, লালচে আলোয় সেই পানির ফোঁটা দুটোকে স্বর্ণবিন্দুর মতো লাগে।
কী হলো, তোমার চোখে কেন জল? নাটকের মুখস্থ সংলাপ ঝেড়ে দেয় রফিক।
তোমার দুঃখ দেইখা দুঃখ পাইছি। তুমি এই পার্ট কেন করছ?
হা হা হা। রফিক হাসে। এইটা তো সত্য না। নাটকের মধ্যে। নাটকের মধ্যে কারও পার্ট দেইখা যদি দর্শক কান্দে, তাইলে সে হইল সেরা অভিনেতা। আমার অভিনয় তার মানে ভালো হইছে। রফিক প্রাণ খুলে হাসে। আহ। আজ তার কী আনন্দের দিন। ওই দিকে মানবেন্দ্র ওরফে মানুদা তারিফ করছেন, আর এদিকে পানু...আজ তার জীবন ধন্য।
কম্পোজিটর কম্পোজ করছে বর্ণমালাগুলো। একটার পর একটা অক্ষর সাজাচ্ছে। এরপর প্রুফ তুলবে। রফিক প্রুফ দেখবে। কম্পোজও সে পারে কিছু কিছু। ম এর পরে আকার দিলে মা হয়, কী রকম জাদু না এই হরফগুলোতে।
হরফের এই জাদুটাই ইদানীং তাকে মন্ত্রীভুত করে ফেলছে। নইলে মানিকগঞ্জ ছেড়ে সে ঢাকা শহরে এসে প্রেসের কাজে লাগে! তার থিয়েটার আর তার পানুকে ফেলে রেখে আসে সে?
রাহেলা খানম পানু তাদের দুই ঘর দুরের প্রতিবেশী। ক্লাস সিক্স পর্যন্ত পড়েছে পানু। তারপর পড়া বন্ধ। ওই দিন, গলি থেকে রাজপথ নাটকের মঞ্চায়ন শেষে তারা বাড়ি ফিরেছিল একসাথে, রাতের পথে ছিল জ্যোৎস্মা আর কুয়াশা আর শিশির। দুরে ঝোপঝাড় থেকে ভেসে আসছিল শেয়াল আর কুকুরের পাল্লা দেওয়া ডাক। রফিক বলেছিল, পানুরে, এরপরের নাটকে তো আমি খুদিরাম হব। আমার তো ফাঁসি হইয়া যাবে। এখন এই সামান্য পাগল হইয়া যাওয়ার সিন সহ্য করতে পারতেছ না, খুদিরাম সাইজা যখন ফাঁসিতে ঝুলব, গান গাব, একবার বিদায় দে মা ঘুরে আসি, তখন সহ্য করবা কেমনে?
তোমার খুদিরাম করনের দরকার নাই রফিক ভাই, পানু রফিকের হাত ধরে বলেছিল। আর কী আশ্চর্য, ওই সামান্য একটা হাতের মুঠোয় রফিকের সমস্তটা অস্তিত্ব যেন বন্দী হয়ে গেল মুহুর্তে। তারপর থেকে রফিকের দিবস-রজনী জুড়ে শুধু ওই এক বালিকার মুখ। কেন এই রকম হয়।
কিন্তু তাই বলে খুদিরাম নাটকের রিহার্সাল তো আর বাদ দেওয়া যায় না। কলেজ ফাঁকি দেওয়া শুরু করল সে। ওদিকে পানুর বাবা-মাও পানুর জন্যে পাত্র খুঁজছেন। রফিক আর পানুর মেলামেশাটা নিয়ে কানাঘুষা শুরু হলে ওরা বলল, তাইলে আর বাইরে বাইরে পাত্র খুঁজব কেন। পাত্র যখন ঘরের কাছেই আছে।
ওরা যখন মেলামেশা করছেই, সেইটাকে একটা স্বীকৃতি দেওয়ার জন্যেই ওদের পানচিনিও হয়ে গেছে। এই তো ফেব্রুয়ারির ২৪ তারিখে ওদের বিয়ে। আর যেহেতু সামনে বিয়ে, নতুন দায়িত্ব, নতুন জীবনের ভার, রফিক তাদের এই বর্ণমালা প্রিন্টিং প্রেসের কাজটায় ইদানীং মনও লাগিয়েছে বেশ।
কিন্তু এর মধ্যে রফিকের মাথায় নতুন চিন্তা জট পাকাতে শুরু করেছে। যে ছাপাখানার গন্ধ তার অসহ্য বোধ হতো, সেটাই তাকে মেশকে আম্বারার মতো টানছে।
ঘটনা ঘটল এইভাবে। বর্ণমালা প্রিন্টিং প্রেসের বৃদ্ধ কম্পোজিটর, চোখে গোল বেশি পাওয়ারের চশমা, কী একটা লিফলেট কম্পোজ করছেন, হঠাৎই একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলে উঠলেন, এই বুড়া বয়সে বুঝি বেকার হইয়া যাইতে অইব। চাকরি বুঝি আর থাকে না?
রফিক টেবিলে বসে আজ প্রেসের জন্যে কী কী কিনতে হবে, কালি আর কাগজ ইত্যাদি, সেসবের ফর্দ বানাচ্ছিল। ফরিদ চাচার কথা শুনে সে মাথা না তুলে বলে, কী কন চাচা?
হ। বুঝতাছ না চারদিকের বাতাস? লিফলেটে কী লেখছে। উর্দু নাকি এই দেশের ভাষা হইব। সরকারি কাম সব উর্দুতে হইব। তাইলে আমার এই বাংলা হরফ কী হইব। আমি তো এই বাংলা কম্পোজ ছাড়া আর কিছু জানি না। এখন এই বয়সে কি উর্দু কম্পোজ শেখনের টাইম আছে। তোমাগো প্রেস তো আর বন্ধ হইব না ভাস্তা, তোমরা উর্দু টাইপ কিনা আনবা, উর্দু কম্পোজিটর আইব, আমি তো এই বয়সে তোমার চাচি আর অপগন্ড পোলাপান ছয়টা লইয়া রাস্তায় ভিক্ষা করতে থালা হাতে বইয়া পড়ুম।
ওই লিফলেটটার প্রুফ কাটতে গিয়ে রফিকের মনে হলো, প্রুফের সঙ্গে কম্পোজিটর ফরিদ চাচার চোখের পানি লেগে গেছে। নাইলে কাগজটার দুই জায়গায় ভেজা কেন। রফিক লিফলেটটা পড়ে, কী কয়? রাষ্ট্রভাষা হবে উর্দু। এটা সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালিরা কেন মেনে নেবে? তাই তো ছাত্ররা ডাক দিয়েছে প্রতিবাদ সমাবেশ আর মিছিলের। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে হবে এই প্রতিবাদসভা।
ছাপাখানার কাঠের খোপগুলো ভরা বিভিন্ন হরফ। একেকটা খোপে একেক বর্ণ। আবার বিভিন্ন পয়েন্টের ফন্টের অক্ষরের জন্যে একেকটা সারি। রফিক এই টাইপগুলোর দিকে তাকায়। হাতে তুলে নেয় সিসার অক্ষরগুলো। সব উল্টা। এগুলো ছাপ দিলে সোজা হবে। এই অক্ষরগুলো সব ফেলে দিতে হবে। এর বদলে কিনে এনে রাখতে হবে উর্দু অক্ষর!
রফিক বাংলা অক্ষরগুলোর প্রেমে পড়ে যায়। এই প্রিন্টিং প্রেসের কালিঝুলি, কেরোসিন, তারপিন, স্পিরিট, সিসা, লোহার পাত, তুঁতের গন্ধ তাকে আবিষ্ট করে তোলে।
মধ্যখানে সিংগাইর বাড়ি থেকে ঘুরে আসে রফিক। পানুর সঙ্গে দেখা করা দরকার ছিল। সামনে বিয়ে। বিয়েতে কী কী খরচ করতে হবে, পানুর সঙ্গে একটু পরামর্শ করার জন্যেই মূলত যাওয়া। পানু তো কিছুতেই মুখ খুলবে না। বলে, তুমি কী দিবা, দেও। আমি কেন বলব। শেষে পানুর ভাবি মুখ খুলল, আলতা, সাবান, চুড়ি, শাড়ি, ব্লাউজ, পেটিকোট, স্েমা, পাউডার, আর সোনার জিনিস যা দিবা...
আজ রফিক বেরুচ্ছে সেই কেনাকাটা করার জন্যে। তার চাচাতো ভাইয়ের ছেলে হবিবরকে সে ডেকে এনেছে বাড়ি থেকে। হবিবর তার ভ্রাতুষ্কপুত্র বটে, কিন্তু তারা সমবয়সী, আর কেনাকাটার ব্যাপারে তার সুনামও আছে। দরাদরির ব্যাপারে হবিবরের প্রতিভা জাদুকরি, সে দুই আনার জিনিস কিনে দুই পয়সা দিয়ে চলে আসে, দোকানদার হাসিমুখে বলে, আবার আইসেন।
ফাল্গুন মাস। রোদটা চড়া। তবু শীতটা আছে বলে রোদটা মিষ্টিই লাগছে। দোকানে আজ ভিড় কম।
সদরঘাট নবাবপুর মার্কেট চষে হবিবর আর রফিক মিলে আলতা, সাবান, চুড়ি ইত্যাদি সস্তার জিনিসগুলো কিনে ফেলে ভেবেছিল শাঁখারিপট্টিতে ঢুকবে স্বর্ণালংকারের জন্যে, কিন্তু এরই মধ্যে রিকশাওয়ালার মুখে শুনল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আর মেডিকেল কলেজের মোড়ে লড়াই বেধে গেছে। ১৪৪ ধারা জারি হয়েছে, মিছিল হবে না আজ আর−রফিক সেটাই জানত। তা না হলে সে কি আর মিছিলে যেত না। কিন্তু ছেলেরা যে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করতে শুরু করেছে, আর লড়াইটাও যে জমে গেছে, সেটা শোনা মাত্র রফিক বলল, হবিবর, চল, মিছিলে যাইতে হইব। বুঝস না...
হবিবর ঠিক বুঝল কি বুঝল না, সেই জানে, কিন্তু সেও হাঁটা শুরু করে রফিকের পিছু পিছু।
দুর থেকে শোনা যাচ্ছে স্েলাগান, রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই...রফিকের মাথার মধ্যে স্বরে অ স্বরে আ ক খ বর্ণগুলো লাফাতে শুরু করে। সে বলে, হবিবর, জোরে হাঁট।
কিছুক্ষণের মধ্যেই তারা মিছিলটা ধরে ফেলে আর মিছিলের সঙ্গে মিশে যায়।
একবার তার পানুর কথা মনে পড়ে। যদি কোনো কারণে পানু শোনে যে রফিক মিছিলে গিয়েছিল, পানু কি ঝরঝর করে কেঁদে ফেলবে। একদিন রিহার্সাল দেখাতে পানুকে নিয়ে গিয়েছিল রফিক। বয়রা স্কুলের ক্লাস ফাইভের ঘরে রিহার্সাল হচ্ছিল। রফিক যখন গানটা ধরল, একবার বিদায় দে মা ফিরে আসি...
তখন পুরোটা ঘর, এমনকি জানালায় রিহার্সালদর্শী জনতাও নীরব হয়ে গিয়েছিল। এর ভেতরেই বাষ্কেপর উদ্গীরণের আওয়াজ। কেউ ফোঁপাচ্ছে। সেদিকে না তাকিয়েও রফিক বুঝতে পারছিল, এটা পানুই। রফিকের কোনো দুঃখ-কষ্ট, হোক না তা নাটকের কাল্পনিক জীবনে, পানু একদমই সহ্য করতে পারে না।
আহা। আর মাত্র তিন দিন। তিন দিন পরেই রফিকের ঘরে আসবে পানু। তার পর থেকে তাদের যৌথ জীবন। ছাপাখানাটা তাদের নিজস্ব। তবু বিয়ের কার্ডটার ইম্প্রেশন কালকে পর্যন্ত হয়নি। আজ সন্ধ্যার মধ্যেই আমন্ত্রণপত্র বের করে ফেলতে হবে। রাতেই বিয়ের কার্ড আর খরচাপাতি নিয়ে তারা রওনা দেবে মানিকগঞ্জের পথে। কালপরশু কার্ডগুলো বিলিবণ্টন করতে হবে।
রাষ্ট্রভাষা রাষ্ট্রভাষা, বাংলা চাই, বাংলা চাই, স্েলাগানে কন্ঠ মেলাতে মেলাতে রফিক এইসব ভাবে। সামনে পুলিশের ব্যারিকেড। রফিকের চোয়াল শক্ত হচ্ছে, গলার রগ ফুলে উঠছে, কন্ঠস্বর আসমান বিদীর্ণ করতে চাইছে, হাতের মুঠো সুর্যকে ধরবে বলে লম্বা হচ্ছে...
তখনই গুলির শব্দ। রেইনট্রি গাছগুলো থেকে গগনচিলগুলো উড়ে ওঠে, কাকের দল চিৎকার করতে থাকে।
গুলি রফিকের কপালে লাগে। সিসা তার করোটি ভেদ করে মগজে প্রবেশ করলে সে পায় সিসার হরফের গন্ধ। ছাপাখানার গন্ধ।
হাত থেকে বাজারের থলে পড়ে গেলে আলতার শিশি ভেঙে যায়।
রফিকের শরীর ঢলে পড়ে। তার মাথা থেকে রক্ত আর মগজের ধারা আলতার ধারার সঙ্গে মিশে পথের ধুলোয় প্রবাহিত হয়। আর করোটির ফোকর দিয়ে বর্ণমালা প্রিন্টিং প্রেসের ১২ ফন্ট, ১৪ ফন্ট, ১৮ ফন্টের বাংলা বর্ণমালাগুলো গড়িয়ে গড়িয়ে বেরিয়ে সটান দাঁড়িয়ে পড়ে, রফিক খোলা চোখে সেই বর্ণমালাগুলো দেখতে পায়। বর্ণমালা ফেব্রুয়ারির উজ্জ্বল রোদে যেন সোনা হয়ে উঠছে। আর কী যে ভালো লাগছে সেই সিসার গন্ধটুকুন।
রাহেলা খানম পানুর হাতে পানচিনির আংটিটা, কুয়োর পাড়ে ওজু করতে করতে পানু সেটা একবার খুলে কনিষ্ঠায় পরে, তারপর হাত ধোয়া হয়ে গেলে আবার পরে নেয় অনামিকায়, এই সময় তাদের বাঁশঝাড়ে একটা কাক কা কা কা বলে ডেকে উঠলে পানুর বুকটা কেন যেন মোচড় দিয়ে ওঠে। সে জানে না কেন, রিহার্সালের দিনে একবার বিদায় দে মা বলে রফিক যখন টান ধরেছিল, রফিকের সেই মুখখানা পানুর হঠাৎ করে মনে পড়ে।
একটা ঢিল ছুড়ে মেরে পানু কাকটাকে তাড়াতে চায়।


লেখাটি এখান থেকে নিয়েছি...

কনভার্ট করেছি এখান থেকে



একটা ছবিও দিয়ে দিলাম। ছবির বক্তব্যটি সত্য হোক এই প্রত্যাশায়.....

Friday, January 30, 2009

ইয়াহুর নতুন সার্ভিস Pingbox। চ্যাটিং করুন আপনার সাইটের ভিজিটরদের সাথে...

আজকে ইয়াহু মেসেঞ্জারের সাইটে গিয়ে দেখলাম নতুন একটি সার্ভিস। নাম Pingbox। Pingbox হলো এমন একটি সার্ভিস যার মাধ্যমে একটা ক্রিপ্ট ব্যবহার করে আপনার বানানো সাইটের বা ব্লগের যেকোন জায়গায় কপি করে দিলেই আপনার সেই সাইট বা ব্লগের ভিজিটররা আপনার সাথে চ্যাটিং করতে পারবে। এরজন্য আপনার প্রয়োজন হবে একটি ইয়াহু আইডি এবং ইয়াহু মেসেঞ্জার। আর ভিজিটরের কিছুই প্রয়োজন হবেনা। সে আপনার সাইটে গেলেই আপনার সাথে চ্যাটিং করতে পারবে। আর সবচেয়ে বড় কথা হলো এই কাজটি করতে মানে Pingbox আপনার ব্লগ বা সাইটে এড করতে আপনার কোনপ্রকার প্রোগ্রামিং জ্ঞান না থাকলেও চলবে। এটা এতোটাই সোজা।

Pingbox যেভাবে তৈরী করবেন:
১. প্রথমেই আপনার ইয়াহু একাউন্টে সাইন ইন করে এই লিংকে যান। ইয়াহু একাউন্ট না থাকলে এখানে গিয়ে তৈরী করে নিন।

২. যে স্ক্রিনটি আসবে সেখান থেকে Create a Pingbox বাটনে ক্লিক করুন।

৩. এইবার যে পেজটি আসবে সেখানে আপনি অনেকগুলো বক্স পাবেন। বক্সে আপনার পছন্দমতো সবকিছু সিলেক্ট করে নিন। সবকিছু পূরণ করে নিচের Next বাটনে ক্লিক করুন।

৪. এবার যে পেইজ আসবে সেখানে প্রথমেই কোন সার্ভিসে আপনি Pingbox ব্যবহার করতে চান তা সিলেক্ট করুন। এবং আপনার সাইটে প্রদর্শন করা Pingbox -টির সাইজ লিখুন। তারপর নিচে যে কোডটি পাবেন সেটাকে আপনার সাইটের যেকোন পছন্দমতো জায়গায় বসিয়ে দিন। Pingbox-এ সাইটে বসানো সংক্রান্ত সাহায্য পাবেন।


ব্যাস, তৈরী হয়ে গেল Pingbox। এইবার গরম গরম পরিবেশন করুন। মানে আপনার সাইটে কোডটিকে সেভ করুন। কোনপ্রকার সমস্যা হলে পোস্টে আমাকে জানান।



আমি আমার ব্লগস্পট ব্লগে Pingbox বসিয়েছি। আমার ব্লগস্পট ব্লগে যেতে এখানে ক্লিক করুন ।।।









সাধারণভাবে এই সার্ভিসের মাধ্যমে বাংলায় চ্যাটিং করা যায় না। মানে বাংলা লিখলেই ?????? দেখায়। তাই বাংলায় চ্যাটিং করতে চাইলে সামহোয়ার ইন ব্লগ অথবা অন্য কোথাও বাংলা লিখে কপি করে দিতে হবে। আমার ব্লগে চ্যাটিং উইন্ডোর উপরে "ত্রিভুজ প্যাড" আছে। সেইখানে বাংলা লিখে কপি করলেও হবে।

Sunday, November 30, 2008

ফটোব্লগঃ A Really Neat Close-up of Comet NEAT from Kitt Peak Observatory...

হাবলসাইট থেকে নামালাম। ছবির বর্ণনা সেখানে ইংরেজীতে দেওয়া আছে। ইংরেজীতেই দিয়ে দিলাম।।।

This image of comet C/2001 Q4 (NEAT) was taken at the WIYN 0.9-meter telescope at Kitt Peak National Observatory near Tucson, Ariz., on May 7, 2004.

The image was captured with the Mosaic I camera, which has a one-square degree field of view, or about five times the size of the Moon. Even with this large field, only the comet's coma and the inner portion of its tail are visible. A small star cluster (C0736-105, or Melotte 72) is visible in the lower right of the image, between the head of the comet and the bright red star in the lower-right corner.

This color image was assembled by combining images taken by Travis Rector (Univ. Alaska, Anchorage), Zolt Levay and Lisa Frattare (STScI/OPO) through blue, green and red filters.

Object Name: C/2001 Q4 (NEAT)

Image Type: Astronomical



বড় ও স্পষ্ট করে দেখতে এবং ডাউনলোড করতে এখানে ক্লিক করুন।।।

হাবলসাইট থেকে সরাসরি ডাউনলোডের জন্য এখানে ক্লিক করুন।।।

অন্যান্য রেজুলেশনের জন্য এখানে ক্লিক করুন।।।

গণনাকারী যন্ত্রের পা-দানিতে বসা এবং অতঃপর ভূমিকম্প ভাবিয়া লম্ফঝম্ফ দেয়া... :(:(:(


প্রতিদিনের মতো আজিকে প্রভাতেও পিসির সামনের বসিলাম। পিসির পা-দানীতে কি যেন একটু সমস্যা আছে। তাই খানিকক্ষণ পরে পরেই কাপিয়া উঠিতেছে। আর আমি লম্ফঝম্ফ করিতেছে ভূমিকম্প ভাবিয়া। ভুমিকম্প আমাদিগকে বশ করিয়া রাখিয়াছে।।। :(

পা-দানীখানা কিছুদিন পূর্বে ভাঙ্গিয়া গিয়াছিল। সারাইবার পরেই এই দশা। দুইখানা পা খাটো।।। :( :( :(


(ছবির চেয়ারখানা গুগল হইতে নেওয়া। এই পুস্টের সাথে উহার কোন সম্পর্ক নেই।)

"For every action, there is an equal and opposite reaction."-নিউটনের তৃতীয় সূত্রের প্রমাণ.... (ফান পোস্ট)

For every action, there is an equal and opposite reaction.-প্রমাণ করতে চান? নিচের ধাপগুলো অণুসরণ করুন।।।

ধাপ ১: প্রথমেই ঘর থিকা বাইর হয়া রাস্তায় যান।

ধাপ ২: রাস্তায় কোন পুলিশ আছে নাকি দেখেন। যদি না থাকে তাহলে গাবদা কাউরে অথবা কোন মেয়েকে টার্গেট করেন।

ধাপ ৩: টার্গেট করা ব্যাক্তিরে কইষ্যা একটা থাপ্পড় মারেন।

ধাপ ৪: এইধাপে আপনার আর কিছু করার নাই। আশা করা যায় রি-একশন পাইবেন।।। ;)

Thursday, August 7, 2008

আমার চেহারা কি এতটাই হাস্যকর?



আজকে স্কুল থেকে জুতা কিনতে গেলাম মিরপুরে। জুতাটা ছিড়া গেছে। প্রথমে গেলাম বাটা বাজারে। সর্বোচ্চ সাইজ আছে নাকি ৮ ওদের কাছে। আমার বর্তমান জুতাটা ৯। টাইট হয়। পেগাসাস। মনে হইলো বেটাগো বাইটা ফালাই। এত্তবড় বাজার মাগার ৯সাইজের জুতা নাই। X(

বাটা বাজারে জুতা না পাইয়া মনে মনে ওগো বাটতে বাটতে গেলাম এপেক্সে। ভাবছিলাম এপেক্সে পামু। যাইয়া দেখি অবস্থা আরো খারাপ। ওগো সবোর্চ্চ সাইজ ৫ কি ৬। ভাবলাম পেগাসাসেই যামু। ওরাও সেইখানেই যাইতে কইলো। গেলাম পেগাসাসে। যাইয়া দেখি ৯সাইজের জুতা আছে। আমি কইলাম ভাই এইর চাইতে বড় নাই? বেটায় হাইসা কইলো, "কুন কোম্পানি এইর চাইতে বড় কেডস্ বানায় না।" মাথা একদম ক্লিন বোল্ড অইয়া গেল। ভাবলাম ক্লাস টেনে কি করুম। যদি পরীক্ষায় ফেল টেল করি তাইলে কি অইবো? পরেতো পড়ার লইগা জুতা পামু না। :(

পেগাসাসের জুতা কেনার পর আম্মা কইলো চল প্রিন্সে যাই। কিছু খা। স্কুল থিকা আইছোস। আমি আম্মার লগে প্রিন্সে গেলাম। প্রথম দুইতালায় সাধারণত বসি না। আইজকাও ব্যতিক্রম করলাম না। সোজা তিনতলায়। তিনতলায় গিয়া দেখি একদম ভর্তি। একটু জায়গাও নাই। :(

কিনারে দেখলাম একটা টেবিল খালি। গিয়া বসলাম সেইটায়। বামে তাকাইয়া দেখলাম দুইটা মাইয়া খাইতাছে। একটা খাওন খাইতাছে মুখ দিয়া আর তাকাইয়া আছে আমার দিকে। আমিতো পুরা টাসকি খাইলাম। :-* ওই মাইয়ায় ওর পাশের জনরে খোচা মারলো। আমারে দেখাইলো।

আমি শিওর হওয়ার জইন্য হঠাৎ হঠাৎ তাকাইলাম। দেখলাম আমার দিকে তাকাইয়া হাসে। আমি থম মাইরা বইসা রইলাম। আমার মুখটাই কেমন জানি। সবসময় হাসি হাসি থাকে। মাঝেমইদ্যে চেষ্টা করলে মুখটারে বেজার করতে পারি। মাইয়াডিরে হাসতে দেইখা মনে মনে কইলাম, "আমার চেহারা কি এতটাই হাস্যকর?" আপনারাই কন।

তাড়াতাড়ি খাইয়া ভাগলাম। আওয়ার আগে তাকাইলাম-ও না। মাইয়া মাইনষেগো দিকে বেশি না তাকাইন্নাই ভাল। শেষে পছন্দ-টছন্দ হইয়া গেলে বিপদে পড়ুম। :)

আহারে দুষ্ক! ফ্রেন্ডশীপ ডে'তে বুজলাম আমার কুন ফেরেন্ড নাই :(



ফ্রেন্ডশীপ ডে উদযাপন কি দিয়া শুরু করুম বুঝবার পারতাছি না। আমার অনেক ফ্রেন্ড। মাগার....... (কি কইবার চাই)

ঠিকাছে। শুরু করলাম। ফ্রেন্ডশীপ ডে'তে স্কুলে অনেক মজা হইলো। স্কুলের ক্লাসে গেলাম লগে লগে কুনহান থিকা শাহেদ আইয়া আমার ডাইন গালে একটা থাপ্পড় মারলো। আমি অবাক হইয়া তাকাইলাম। পোলায় ৩২টা দাত (কম থাকতে পারে। গুনিনাই।) বাইর কইরা কইলো, হ্যাপি ফ্রেন্ডশীপ ডে। :D আমার বিস্ময় তখনো কাটেনাই। পোলায় ফ্রেন্ডশীপ ডে'তে আমারে একটা থাপ্পড় উপহার দিয়া চইলা গেল। না না, একটা থাপ্পড় না। পরে অনেক অনুরোধ কইরা আরেকটা খাইছিলাম। এক থাপ্পড়ে নাকি আবার ইয়ে হয়না। ই'র জায়গায় বি বসাইয়া দেন। ;)

তাও ভাল। ওই পোলার লগে দেখা হওয়ার পর থিকা সাবধান হইয়া গেলাম। কপাল ভাল। স্কুলে আসার সময় মায়ের লগে আইছি। ওর লগে দেখা হয়নাই। ও আবার বড় বান্দর। সরি, বান্দরানী। ও বান্দর হইলে আমি কি? :) ওর মাথায় আবার বান্দরী ফর্মুলায় ভরা। এই ফর্মুলাডারে শিওর এপ্লাই করতো। রাস্তায় মাইয়াগো হাতে থাপ্পড় খাইলে ঘর থিকা বাইর হইবার পারতাম না। কেয়ারফুল হইয়া ক্লাস করতে লাগলাম।

প্রথম ক্লাসে আইলো শুভাশিষ স্যার। আমাদের অংক করায়। স্যার খুবই ভাল। আজকে ভাল আচরণ করলো। স্যার আমাদের সাথে খুব-ই ফ্রেন্ডলী। কমার্সের আহমাদুল আইসা স্যারের লগে অনেকক্ষণ কথা কইলো। ফাইজলামী করলো। স্যারের লাইগা ফ্রেন্ডশীপ ডে উপলক্ষে উপহার আনছে। :)

ও, কইতেই ভুইলা গেছি। স্কুলে যাওয়ার পর দেখি ব্লাকবোর্ডে বড় বড় কইরা ইংরেজীতে লেখা হ্যাপি ফ্রেন্ডশীপ ডে। মাইয়ারা লেইখা থুইয়া গেছে। ;) আমি মনে মনে কইলাম, "তাও ভাল।"

টিফিন টাইমে এক জুনিয়রের লগে দেখা হইলো। দূর থিকাই চিল্লাইয়া কইলাম। হ্যাপি ফ্রেন্ডশীপ ডে। লগে লগে দুইটা মাইয়া আমার দিকে তাকাইলো। যা বুঝার বুইঝা গেলাম। তাড়াতাড়ি উল্টাদিকে তাকাইয়া পল্টি মারলাম। :)

Saturday, July 26, 2008

ডাল্টনের পরমাণুবাদ আবিষ্কারের কথা!



আমরা অনেকেই (বিশেষ করে যারা বিজ্ঞান নিয়ে পড়েছি) ডাল্টনের পরমাণুবাদ নামে একটা জিনিসের সম্মূখিন হয়েছি নবম শ্রেণীতে থাকতে। জন ডাল্টন নামের একজন সবপ্রথম পরমাণু আবিষ্কার করেছেন। ডাল্টনের পরমাণুবাদ এখন বর্তমানে স্বীকৃত নয়। তারপরেও তার এই পরমাণুবাদ আবিষ্কার একটা বিস্ময়কর ঘটনা এবং এই আবিষ্কারের ঘটনাটি আরোও বেশি বিস্ময়কর। এই পোস্টে আমি ডাল্টন কীভাবে তার পরমাণুবাদ আবিস্কার করেছেন তা নিয়ে লিখবো।

জন ডাল্টন যখন ছোট ছিলেন তখনকার কথা। সাধারণত সব বিজ্ঞানীদেরকেই ছোটবেলায় আলাদা করে চিহ্নিত করা যায়। জন ডাল্টনের ক্ষেত্রে এর ব্যাতিক্রম ঘটেনি। তার মাথায় সারাদিন উদ্ভট সব চিন্তা-ভাবনা ঘুরে বেড়াতো। আমরা কিছু কিছু বিজ্ঞানীর জীবনী থেকে দেখেছি তারা তাদের উদ্ভট প্রশ্ন ও চিন্তাধারা দিয়ে শিক্ষকদের বিপাকে ফেলে দিতেন। কিন্তু ডাল্টন শুধু শিক্ষক নয়, তার বাবা-মাকেও বিপদে ফেলে দিতেন। তার এই উদ্ভট চিন্তাভাবনার মধ্যে একটা ছিল এরকম।

"ওই দূরে আকাশটা যেখানে গিয়ে মাটির সাথে মিশেছে, আমি সেখানে যেতে চাই।"- ডাল্টন এই ইচ্ছাটার কথা সবাইকে বলতো। তার শিক্ষকরা তাকে বোঝাতে চেষ্টা করলো যে এটা সম্ভব নয়। আকাশ সেখানে গিয়ে মিশেনি। কিন্তু ডাল্টন কিছুই বুঝতেন না। তার এটা ছিল একরকমের জেদ। একদিন তার বাবা অনেক ভেবে-চিন্তে দেখলেন যে ছেলের মাথা থেকে এই উদ্ভট চিন্তা বের করার একটাই উপায় আছে। সেটা হলো তাকে ওই স্থানে নিয়ে গিয়ে দেখানো যে আকাশ সেখানে মেলেনি।

ডাল্টনের বাবা ডাল্টনকে আর ডাল্টনের মাকে নিয়ে যাত্রা আরম্ভ করলেন। ডাল্টন খুব আগ্রহ নিয়েই যাত্রা শুরু করলেন। ডাল্টনের বাবা তাদের গ্রামের পরের গ্রামে গেলেন। গিয়ে বললেন, "দেখেছো, আসলেই ওই স্থানে যাওয়া যাবে না। ওই স্থান আসলে আমাদের চোখের ভুল।" কিন্তু ডাল্টন কোন কথা শুনবেন না। সে আরো যেতে চাইলো। তারপর তারা একের পর এক গ্রাম যেতে লাগলেন। একসময় ডাল্টনের বাবা-মা হাপিয়ে উঠলেন। তারপরও ডাল্টন যাত্রা চালিয়ে গেলেন। একসময় সে নিজেই ক্লান্ত হয়ে পড়লো। তার বাবা সেটা দেখে সুযোগটা হাতছাড়া করলেন না। তার মাথায় একটা বুদ্ধি উকি দিল। সে ঠিক করলো এমন কিছু একটা করবেন যাতে তার ছেলের মাথায় এরকম উদ্ভট চিন্তা আর না আসে। এবার ডাল্টন ক্লান্ত হয়ে যাত্রা বন্ধ করতে চাইলে তার বাবা বললেন তাকে তিনি আকাশের ওই যায়গায় নিয়েই ছাড়বেন। আবার গ্রামের পর গ্রাম যেতে লাগলেন তারা। একসময় ডাল্টন ক্লান্ত হয়ে আর হাটতে পারলেন না। প্রায় অচেতন অবস্থায় তার বাবা-মা তাকে বাড়ি নিয়ে আসলেন। তাদের মনে খুশি। যাক, ছেলের উদ্ভট চিন্তা-ভাবনা বন্ধ হবে। এখন পড়ালেখায় একটু বেশি মনোযোগ দিতে পারবে ডাল্টন।

কিন্তু ডাল্টনের মা পরেরদিন-ই অবাক হয়ে গেলেন ছেলের একটা কথা শুনে। ডাল্টন তার মাকে বললো, "মা, আমি আমাদের এই ভ্রমন থেকে কি শিক্ষা পেলাম জানো? আসলে আকাশ গিয়ে দূরে মেলেনা। আকাশ এতটাই বিশাল যে আমাদের চোখ এটাকে ধরতে পারে না। তাই দূরে যাওয়ার পর সেটাকে আমাদের চোখ নিচে নামিয়ে দেয়।" ডাল্টনের পরের কথাটায় তার মা আরো বেশি বিস্মিত হলেন। ডাল্টন তার পরের কথাটায়-ই বললো, "আমার ধারণা আকাশ যেরকম বৃহৎ বলে আমরা তাকে দেখতে পারি না তেমনি এমন অনেক ক্ষুদ্র জিনিসও আছে যেটাকে আমরা দেখতে পারিনা।" আট বছর বয়সের ডাল্টনের বুদ্ধিমত্তা ছিল খুবই উচু পর্যায়ের। সাধারণ কোন বালক হলে কোনদিনও আর ওদিকের পথ মাড়াতো না। :) ডাল্টনের মা তখন-ই বুঝে গেলেন যে তার ছেলে বড় হয়ে পুরো দুনিয়াকে কাঁপাবে। এবং এটা তখন সত্যি সত্যি-ই হয়েছিল।


এরপরেই শুরু হলো ডাল্টনের আসল জ্বালা। ডাল্টন ঘর থেকে বের হওয়া বন্ধ করে দিলেন। তিনি ঘরে বসে থেকে সামনে যা পেলেন তাই ভাঙ্গতে লাগলেন। গ্লাস থেকে শুরু করে সব। বছরের পর বছর কিশোর বয়সী ডাল্টন ঘরে বসে কাটালো শুধু জিনিসপত্র ভেঙ্গে। একদিন তার মাকে সে বললো, "আমি বলেছিলাম না মা যে এমন অনেক ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জিনিস আছে যা আমরা দেখতে পাইনা? এই দেখ। এই কাগজটাকে এই যন্ত্রের মধ্য দিয়ে দেখলে কিছু দেখতে পাও কিনা।" ডাল্টনের মা যন্ত্রটাকে ব্যবহার করে কাগজের মধ্যে অনেকগুলো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কণা দেখতে পেলেন। যা তিনি খালি চোখে দেখেননি বা যা খালি চোখে দেখা অসম্ভব। এভাবেই আবিষ্কৃত হলো পরমাণু। আর সেটাকে ডাল্টন আবিষ্কার করলেন খুব-ই কম বয়সে।


ডাল্টন বলেছিলেন যে পদার্থের সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম একক হলো পরমাণু। এটা অবিভাজ্য। অর্থাৎ পরমাণুকে আর ভাঙ্গা যায়না। কিন্তু পরবর্তীতে বিজ্ঞানীরা পরমাণুকেও ভাঙ্গতে সক্ষম হলেন এবং এখন আমরা জানি যে পরমাণুকে ভাঙ্গলে ইলেক্ট্রন, প্রোটন এবং নিউট্রন পাওয়া যায়।



সূত্রঃ এই লেখার কোন সূত্র নেই। আমাদের জীববিজ্ঞান শিক্ষক আমাদের এই ঘটনাটা বলেছেন। আমাদের শিক্ষক হয়তো আমাদেরকে ঠিক-ই বলেছেন কিন্তু ৩-৪মাস পরে লেখায় কিছু বিষয় বিকৃত হয়ে গেছে। তার জন্যে দূঃখিত। কষ্ট করে সম্পূর্ণ লেখাটা পড়ার জন্য ধন্যবাদ।